RDB JOURNAL
শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

ভিক্ষা করে নিজের খাবার, সেই টাকাতেই চার কুকুর ও এক বিড়ালের মুখে খাবার তুলে দেন রোকেয়া

 

নিজের খাবার জোটে না, তবুও ভিক্ষার টাকায় চার কুকুর ও এক বিড়ালকে খাওয়ান প্রতিবন্ধী রোকেয়া

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের বাদশা মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী রোকেয়া। নিজের জীবনে চরম অভাব-অনটন, ভাঙা ঘর, নেই বিদ্যুৎ—সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। নিজের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে হয়, সেখানে সেই সামান্য উপার্জন থেকেই চারটি কুকুর ও একটি বিড়ালের খাবার কিনে খাওয়ান তিনি।



প্রায় দুই যুগ আগে স্বামীকে হারিয়েছেন রোকেয়া। বর্তমানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়ে অপেরা এবং চারটি কুকুর ও একটি বিড়ালকে নিয়ে তার ছয় সদস্যের সংসার। অভাবের সংসারে নিজের খাবার জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে অসহায় প্রাণীগুলোর প্রতি তার ভালোবাসা যেন মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা করে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পোষা প্রাণীগুলোর জন্য খাবার কিনে আনেন রোকেয়া। নিজের কষ্ট, ক্ষুধা ও অভাবকে উপেক্ষা করে নিয়ম করে তাদের খাবার খাওয়ান। তার কাছে প্রাণীগুলো শুধু কুকুর-বিড়াল নয়, যেন পরিবারেরই সদস্য।



রোকেয়ার বসতঘরটিও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ঘরে নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা। বৃষ্টির সময় ভাঙা ঘরের এক কোণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া যেন আর কোনো উপায় থাকে না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

রোকেয়ার এই জীবনসংগ্রাম যেমন হৃদয়বিদারক, তেমনি অবলা প্রাণীদের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সমাজের জন্য একটি বড় মানবিক বার্তা। নিজের জীবনেই যখন অভাবের ছাপ স্পষ্ট, তখনও অন্য প্রাণীর ক্ষুধার কথা ভাবেন তিনি—যা সত্যিই বিরল এক মানবিক দৃষ্টান্ত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোকেয়া অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তার জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার, বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্যও প্রয়োজন বিশেষ সহযোগিতা।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকার ও সমাজের বিত্তবান এবং হৃদয়বান মানুষ যদি অসহায় রোকেয়ার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে তার জীবনযাত্রার কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। জীবনের শেষ সময়ে তিনি একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার সুযোগ পাবেন।

রোকেয়ার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবতা শুধু সামর্থ্যবান মানুষের বিষয় নয়; নিজের অভাবের মধ্যেও অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও মমতা দেখানো যায়। তার জীবপ্রেম নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক অনন্য মানবিক শিক্ষা।

সংবাদ লোড হচ্ছে...

Comments

এলাকার খবর