RDB JOURNAL
শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য রুখতে দিল্লির সহযোগিতা চায় ঢাকা: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের শঙ্কা

ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে এবং এই রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধে দিল্লির সহযোগিতা দাবি করেছে।সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কাবাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এমন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন বা পলাতক কোনো আসামি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে। পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতীয় হাইকমিশনারকে সতর্ক করে বলেন, ভারতের মাটি ব্যবহার করে এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো হলে তা দুই দেশের বিদ্যমান ইতিবাচক ও দূরদর্শী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।একই দিন রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, "আমরা ভারতের সাথে একটি দূরদর্শী ও ইতিবাচক সম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই না এই সম্পর্কের অগ্রগতি কোনোভাবে ব্যাহত হোক। তাই শেখ হাসিনার এই অনুষ্ঠানের পেছনে ভারতের রাষ্ট্রীয় কোনো সমর্থন বা অনুমতি আছে কি না, তা নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট করতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক আসামি ভারতের ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিক, তা ভারতও এর আগে সমর্থন করেনি।


ভারতের অনুসন্ধান ও সতর্ক থাকার আশ্বাস
বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগের জবাবে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ভারত এই প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর ও অনুসন্ধান চালাবে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজরদারি বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্টতা
জানা গেছে, নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই বিশেষ সেশনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার প্রথম বড় কোনো প্রকাশ্য ভার্চুয়াল বা গণমাধ্যম উপস্থিতি। এই ভার্চুয়াল প্যানেলে শেখ হাসিনা ছাড়াও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আয়োজক সংগঠন এফসিসি (FCC)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বেসরকারি সেশনের সাথে ভারত সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পাচ্ছিল। তবে শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাংলাদেশে তাঁর বিচারাধীন মামলার রায় বাস্তবায়নে প্রত্যর্পণের চাপকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন সংকট অত্যন্ত সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে।


RDB Journal-এর পর্যবেক্ষণ:

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সংবাদ লোড হচ্ছে...

Comments

এলাকার খবর